এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করায় শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, “গত ৫ আগস্ট এই ‘ফার্মের মুরগি’ ছাত্ররা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল বলেই এহছানুল হক মিলন আজ শিক্ষামন্ত্রী হতে পেরেছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ শিলং থেকে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন এবং তারেক রহমান সরকার গঠন করতে পেরেছেন। এই ছাত্ররা মাঠে না নামলে বিএনপি নেতাকর্মীরা আজও ধানখেতে পালিয়ে থাকত কিংবা ঢাকায় রিকশা চালাত।”
গতকাল সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় এনসিপির পদযাত্রা শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বন্যাদুর্গতদের মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৩০ টাকা!
সমাবেশে সরকারের বন্যা ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন,
“টানা বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, আনোয়ারাসহ পার্বত্য অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি থাকলেও এখন পর্যন্ত সেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য পৌঁছায়নি। সরকার পার্বত্য অঞ্চল থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও বন্যাদুর্গতদের জন্য জনপ্রতি বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ৩০ টাকারও কম।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যখন মানুষ বন্যায় ভাসছে, তখন পার্বত্য অঞ্চলের মন্ত্রী সৌদি আরবে হজ করতে গেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন জেলা সফর করলেও বন্যার্তদের দেখতে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন না।
সংবিধান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের এক বক্তব্যের জবাবে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেছেন—সংবিধানে নাকি ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি’ বলে কিছু নেই।
সংবিধানে যদি সংস্কারের কিছু নাই থাকে, তবে ২০২৬ সালের এই আগাম নির্বাচনই তো অবৈধ! কারণ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। তারেক রহমানের এই সরকার তাহলে কীভাবে বৈধ হয়?”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও বর্তমান সরকার সেই রায় মানছে না।




