সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, আইনি বাধা এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করে চলতি বছরই (২০২৬) বাংলাদেশে ফেরার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি‘-কে (NDTV) দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নির্বাসিত জীবনে থাকা শেখ হাসিনার এমন সরাসরি ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরা তাঁর ব্যক্তিগত কোনো ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই।
তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।”
মৃত্যুকে ভয় পাই না, আওয়ামী লীগ কাগুজে সংগঠন নয়
নিজের জীবননাশের হুমকির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পারিবারিক ট্র্যাজেডি এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন ও মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করে আসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবারই তিনি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এবারও সব বাধা অতিক্রম করে মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন।
দলটির ওপর চলমান রাজনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি ও মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বারবার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।”

৫ আগস্টের পর দেশের মূল ভিত্তিতে আঘাত
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশবিরোধী শক্তি গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের মানুষের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা পরিবর্তন করেছে। তবে মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।
তিনি দাবি করেন, দলের ওপর নানামুখী নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলটির সমর্থনে মিছিল করছেন, যা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের স্পষ্ট লক্ষণ।
বিগত ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মূল ভিত্তি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর চরম আঘাত হানা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ করা এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালানো বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ।
গোপন সমঝোতার গুঞ্জন নাকচ
অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা শক্তির সঙ্গে ক্ষমতার জন্য কোনো গোপন সমঝোতার গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।”
ভারতে অবস্থান করলেও তাঁর মন সবসময় বাংলাদেশে পড়ে আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাবার সমাধি এবং প্রিয় দেশবাসীর কথা ভেবে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত অস্থিরতায় পার করছেন।
সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াবে।”
সূত্র: এনডিটিভি




