রাজপথের ‘অগ্নিশিখা’ হালিমা খান লুসি: সংরক্ষিত নারী আসনে এবার কি তবে যোগ্যতার জয়?

হালিমা খান লুসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে রাজপথের প্রধান দল বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১২ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই নির্বাচনে লড়তে এবং দলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন রাজপথের অকুতোভয় নেত্রী হালিমা খান লুসি

রাজনীতির অগ্নিশিখা হালিমা খান লুসি

উৎসবমুখর পরিবেশে ফরম সংগ্রহ ও জমা গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী

হালিমা খান লুসি

উদ্বোধনের পর বিকেলে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিং-এর হাত থেকে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেন এবং তা যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দেন হালিমা খান লুসি। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা এস কে সাদীসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

তৃণমূল থেকে রাজপথ: এক লড়াকু জীবন হালিমা খান লুসি কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং দীর্ঘ ৩৩ বছরের এক পরীক্ষিত রাজনৈতিক জীবনের নাম। ১৯৯২ সালে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজ ছাত্রদলের মাধ্যমে তার পথচলা শুরু। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি তিনি সামসুন্নাহার হলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-মহিলা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একাধারে উচ্চশিক্ষিত (EMBA) এবং আইনি শিক্ষায় (LL.B) সমৃদ্ধ লুসি মেধা ও সাহসের এক বিরল সংমিশ্রণ।

নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে সাফল্য সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে হালিমা খান লুসি তার সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ৫টি জেলার ২০টি সংসদীয় আসনে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ছিলেন নেপথ্য কারিগর। বিশেষ করে ঢাকা-১৭ এবং অত্যন্ত প্রতিকূল এলাকাগুলোতে তার প্রশিক্ষিত কর্মীরাই ভোটের মাঠ আগলে রেখে দলের বিজয় নিশ্চিত করতে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।

৩৩ বছরের সংগ্রামী রাজনীতির অগ্নিশিখা হালিমা খান লুসি

১/১১-এর সেই অকুতোভয় সৈনিক দলের চরম দুঃসময়ে, বিশেষ করে ১/১১-এর সময় যখন গুলশান কার্যালয় বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল, তখন যে কজন নারী কর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, হালিমা খান লুসি তাদের মধ্যে অন্যতম। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনে তার ত্যাগ ও সাহসিকতা আজ তাকে তৃণমূলের আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে।

সংসদে তৃণমূলের কণ্ঠস্বর হওয়ার প্রত্যাশা বর্তমানে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী মনে করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে যদি রাজপথের ত্যাগী ও উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়, তবে তা দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা, ৩৩ বছরের ত্যাগ আর মেধার সঠিক মূল্যায়ন করে হালিমা খান লুসিকে এবার সংসদে পাঠিয়ে তার দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি দেবে দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *