
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের নির্বাচনী মাঠ থেকে ছিটকে পড়লেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করার সত্যতা পাওয়ায় শনিবার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।
শুনানির রায় ও কারণ: রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিলনায়তনে আপিল শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত জানায় ইসি। কমিশন জানায়, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, যা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী। ফলে তাকে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহর জয় ও পাল্টাপাল্টি আপিল: এই আসনের প্রার্থিতা নিয়ে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে তীব্র আইনি লড়াই চলে।
- প্রথমত: মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ও দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। শুনানিতে তার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইসি মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল করে।
- দ্বিতীয়ত: অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে পাল্টা আপিল করেছিলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তবে শনিবারের শুনানিতে কমিশন সেই আবেদন খারিজ করে দেয়, ফলে হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ হিসেবে বহাল থাকে।
নির্বাচনী সমীকরণ: দেবিদ্বারের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার পথ আরও সুগম হলো।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির শিবিরে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।




