সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৩০টি আসনে ব্যাপক কারচুপি, জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে দলটি। প্রয়োজনে এ নিয়ে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই দাবি জানান।
পুনর্গণনার দাবিতে আলোচিত ৩০ আসন
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেসব আসনে জালিয়াতির প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো হলো:
- উত্তরবঙ্গ: পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫, লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১।
- দক্ষিণাঞ্চল: যশোর-৩, খুলনা-৩ ও ৫, বরগুনা-১ ও ২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২।
- ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ: ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩, ১৭, ময়মনসিংহ-১, ৪, ১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২।
- চট্টগ্রাম বিভাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, “প্রশাসনের একটি অংশ এবং নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা যোগসাজশ করে এই ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেছেন। বিশেষ করে ঢাকা-৮, ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-৬ আসনের ফলাফল ম্যানিপুলেট করে প্রকৃত বিজয়ীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বহু কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোট গণনায় গরমিল এবং ফলাফল ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব করা হয়েছে। কোথাও ভোর ৫টায় ফল দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত রহস্যজনক।”
বিরোধী দলের পথে জামায়াত
উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসনে এবং জোটগতভাবে মোট ৭৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, দলটি জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে।
জামায়াত নেতারা জানান, যেসব আসনে ৫ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে, সেসব জায়গায় অনিয়মের পাল্লা বেশি। স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিলেও প্রতিকার পাওয়ার আগেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।




