দীর্ঘদিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ বাসভবনে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বাসায় ফেরার আগমুহূর্তেই তাঁর দেওভোগের বাড়ির গেটের সামনের ল্যাম্পপোস্টে অত্যাধুনিক সিসি (CCTV) ক্যামেরা বসিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক মেয়রের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে এবং তিনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সভা-সমাবেশ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোর গ্যাং নাকি রাজনৈতিক নজরদারি?
আইভীর বাসার সামনে সিসি ক্যামেরা বসানোর বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, এই সিসি ক্যামেরা শুধু সাবেক মেয়রের বাড়িকে কেন্দ্র করে লাগানো হয়নি। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে সাবেক মেয়রের বাসার এলাকায় মোট চারটি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক নজরদারির বিষয়টি স্পষ্ট করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,
“সাবেক মেয়রের সঙ্গে মানুষজন ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে আসতে পারবে, তাতে বাধা নেই। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক সভা করছেন কিনা, তা পুলিশ কঠোরভাবে নজরদারি করবে। তেমন কোনো রাজনৈতিক তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভাইয়ের মৃত্যুশোকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আইভী
১২টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকার পর যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার (৩ জুন ২০২৬) রাত সাড়ে ১২টায় নিজ বাড়িতে পৌঁছান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়িতে আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও সাবেক কাউন্সিলররা দেখা করতে আসেন।
ছোট ভাই আহম্মদ আলী রেজা রিপনের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আইভী। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাবেক কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে ভাইয়ের কথা মনে করে বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সদ্য কারামুক্ত এই বর্ষীয়ান নেত্রী। তিনি জানান, ফোনে কথা বলতে বলতে আর স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের কারণে রাতে তাঁর একটুও ঘুম হয়নি।
জেলে বসে ধর্মীয় আমল
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইভীর বাসার পারিবারিক খানকায় ‘গাদিরে খুম’ এর ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। আইভী জানান, তিনি জেলে বসে দোয়া করেছিলেন যেন এই পবিত্র দিবসের আগেই বাসায় ফিরতে পারেন এবং তাঁর সেই দোয়া কবুল হয়েছে। কারাজীবনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “যেসব ধর্মীয় আমল অন্য সময় করা হয়নি, জেলে বসে আমি সেসব আমল করেছি।”
পেছনের ঘটনা ও ১২ মামলা
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনে মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই মামলায় গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল দিয়ে আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন, যা ১৭ মে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত বহাল রাখেন। এর আগে গত ১০ মে অন্য ১০টি মামলাতেও তাঁর জামিন বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ। সব মামলার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর বুধবার রাতে তিনি মুক্তি পান।
উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার এবং পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড গড়েন।
সূত্রঃ সমকাল




