রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও তরুণ ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন।
শরিফ ওসমান হাদি বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক ও ছাত্র অঙ্গনে।
অস্ত্রোপচার শেষে তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান।
ডা. মো. আব্দুল আহাদ বলেন, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে ওসমান হাদির পরিবার অস্ত্রোপচারের জন্য সম্মতি দেয়। এরপর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। “অপারেশন শেষ হওয়ার পর আর কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। পরে সরাসরি তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়,” বলেন তিনি।
হাদির মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আহাদ বলেন, মৃত্যুর খবরটি এইমাত্র পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ঘটনার পটভূমি: গত ১২ ডিসেম্বর বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের একটি গণসংযোগ কর্মসূচি চলাকালীন এই বর্বরোচিত হামলার শিকার হন হাদি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। একটি বুলেট তার মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি সাথে সাথেই লুটিয়ে পড়েন।
চিকিৎসা ও শেষ মুহূর্ত: গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
লাইফ সাপোর্টে থাকা হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কয়েক দিন যমে-মানুষে লড়াই করার পর আজ রাতে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।
শরিফ ওসমান হাদির ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ এবং ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল পেজ থেকে এই শোকাবহ সংবাদটি নিশ্চিত করা হয়েছে।




