বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রথমবারের মতো কারাবন্দিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ অর্ধশত ‘ভিআইপি’ বন্দি।
ভোট দিলেন যারা
কারা অধিদপ্তর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা হাইপ্রোফাইল নেতাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন:
- সালমান এফ রহমান (সাবেক উপদেষ্টা)
- আনিসুল হক (সাবেক আইনমন্ত্রী)
- রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু
- জুনাইদ আহমেদ পলক (সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী)
নিবন্ধিত ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও ১১ জন সাবেক সচিব এবং ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
ভোটের পরিসংখ্যান
গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৬৭ জন বন্দি ভোট দিয়েছেন। মোট ৫ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) শেষ দিনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। একই সঙ্গে তারা চলমান সংস্কার বিষয়ক গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন।
যেভাবে ভোট দিচ্ছেন বন্দিরা
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, প্রতিটি বন্দিকে তিনটি খাম সংবলিত একটি প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ অপশন সম্বলিত পৃথক ব্যালট পেপার থাকছে।
প্রক্রিয়াটি হলো: ১. বন্দিরা ভোট দিয়ে খামগুলো সিল করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। ২. কারা কর্তৃপক্ষ ডাক বিভাগের ‘এক্সপ্রেস সার্ভিস’-এর মাধ্যমে সেগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠায়। ৩. সাধারণ ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ফলাফলের সঙ্গে এই পোস্টাল ব্যালটগুলো যোগ করা হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
এর আগে বাংলাদেশে কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের এমন সুযোগ ছিল না। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। এটি গণতন্ত্রের একটি নতুন মানদণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।




