বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিকূল সময়ে যারা পিছু হটেননি, তাদের তালিকায় অন্যতম নাম হালিমা খান লুসি। দীর্ঘ ৩৩ বছরের রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি শুধু পদ-পদবি অর্জন করেননি—গড়ে তুলেছেন তৃণমূলের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস।
হালিমা খান লুসি বর্তমানে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লড়াকু নেত্রী হালিমা খান লুসি।

🏛️ ১৯৯২ থেকে আজ: সংগ্রামের এক অবিচল ইতিহাস
১৯৯২ সালে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন হালিমা খান লুসি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-মহিলা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১/১১-এর রাজনৈতিক সংকটকাল ছিল তার সংগ্রামী জীবনের অন্যতম অধ্যায়। যখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, তখনও তিনি রাজপথে ছিলেন সক্রিয়। গুলশানে বিএনপির কার্যালয় অবরুদ্ধের সময় প্রতিবাদী নেতাকর্মীদের সামনের সারিতেই ছিলেন তিনি।
গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান ও সাহসী। ৩৬শে জুলাই সরকারের পলায়নের আগ পর্যন্ত তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন বলে দলের অভ্যন্তরে প্রচলিত রয়েছে।
🎓 মেধা ও রাজনীতির অনন্য সমন্বয়
শুধু রাজপথের রাজনীতি নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতাতেও সমানভাবে উজ্জ্বল হালিমা খান লুসি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি
- ইউসিসি (UCC) থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ
তিনি একজন মোটিভেশনাল ট্রেইনার এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা একইসাথে মাঠের আন্দোলনে সাহসী এবং সংসদে যুক্তিনিষ্ঠ। হালিমা খান লুসির ক্ষেত্রে এই দুই গুণের সমন্বয় স্পষ্ট।
📊 সাংগঠনিক দক্ষতায় আলাদা অবস্থান
রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক কারিগরি দক্ষতায় হালিমা খান লুসি নিজেকে অপরিহার্য করে তুলেছেন । তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা ও পোলিং এজেন্ট ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় ট্রেনিং টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন ।
বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত আসনে এজেন্ট প্রশিক্ষণ ও নির্বাচনী প্রচারণায় তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা দলের ভেতরে ও বাইরে প্রশংসিত হয়েছে ।
এছাড়া তিনি টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, ফেনী, ফরিদপুর ও পাবনাসহ মোট ৫টি জেলার ২০টি সংসদীয় আসনে সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, যেখানে তার নির্দেশনায় প্রশিক্ষিত এজেন্টরা ভোট রক্ষায় সাহসী ভূমিকা রেখেছেন ।
বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রকৌশল ও এজেন্ট ব্যবস্থাপনায় তার প্রশিক্ষিত এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ প্রার্থীর জয়লাভ দলের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
এটি প্রমাণ করে, তিনি শুধু আন্দোলনের নেত্রী নন—সংগঠন গড়ে তুলতেও সক্ষম।
আরো পড়ুন- সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ; মেয়রদের ক্ষমতা পেলেন যারা

👩⚖️ কেন সংরক্ষিত নারী আসনে এগিয়ে হালিমা খান লুসি?
হালিমা খান লুসি জানিয়েছেন, সংসদে সুযোগ পেলে তিনি দেশের ৫০ ভাগ নারী শ্রমিকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম-অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবেন।

একজন আইনের ছাত্রী হিসেবে সংসদীয় আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে তার সমর্থকদের।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথের ধুলো-মাটি মেখে বেড়ে ওঠা এই নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলে তা হবে তৃণমূলের বিজয়।

🔎 রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা?
শহীদ জিয়ার আদর্শ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রেরণায় দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা হালিমা খান লুসি এখন আলোচনার শীর্ষে।

প্রশ্ন এখন একটাই—
সংরক্ষিত নারী আসনে কি এবার সুযোগ পাচ্ছেন এই সংগ্রামী নেত্রী?
উত্তর সময়ই দেবে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় তিনি এখন সবার আগে।




