নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ড তথা কাফরুল এলাকায় বইছে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসন আর আধুনিক ওয়ার্ড গড়ার স্বপ্ন নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একটিই নাম— আব্বাস আলী।
শুধু গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সমাজসেবক ও গরীব অসহায়দের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি কি পারবেন কাফরুলের আমূল পরিবর্তন আনতে? স্থানীয়দের দাবি আর বাস্তব পরিস্থিতির সমীকরণে ১৬ নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের মুখ হিসেবে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিনি।
গত ২০ বছর ধরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের (কাফরুল-ইব্রাহিমপুর এলাকা) মানুষ কী পেয়েছে? এ প্রশ্ন এখন প্রতিটি চায়ের দোকানে, প্রতিটি বাসায়, প্রতিটি ফেসবুক পোস্টে ঘুরছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ —
✅ কোনো খেলার মাঠ নেই, শিশুরা রাস্তায়-গলিতে ফুটবল খেলে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে।
✅ কবরস্থানের সংকট প্রকট, প্রিয়জনকে শেষ বিদায় দিতে হিমশিম খেতে হয়।
✅ রাস্তাগুলো এত সরু যে বড় বড় দালান উঠছে প্রতিনিয়ত, গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, জনসংখ্যা বাড়ছে — কিন্তু চলাচলের জায়গা কমছে। দুটো গাড়ি পাশাপাশি গেলেই যানজট, ভ্যান-অটোরিকশার দাপটে পথচারীরা হাঁটতে পারেন না।
✅ গ্যাসের সমস্যা, পানির সংকটে প্রতিদিনের সংগ্রাম — এ যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা।

আব্বাস আলীর সৌজন্যে হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ী প্রদান
এলাকাবাসী বলেন, “একজন কাউন্সিলরের দায়িত্ব তো এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরা। কিন্তু গত দুই দশকে যারা এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ — জনগণের এই মৌলিক দুর্ভোগগুলোকে কখনো আমলে নেওয়া হয়নি।”

এই বাস্তবতার মাঝে এখন একটি নাম মুখে মুখে ঘুরছে — ”আব্বাস আলী”। কাফরুলের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তিনি কোনো পদ-পদবির লোভে নয়, বছরের পর বছর নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত “আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন” এর মাধ্যমে তিনি যা করেছেন, তা প্রচারের জন্য নয় — মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে।
একজন কাউন্সিলর স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা) এর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নিজ ওয়ার্ডের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন, উন্নয়নমূলক কাজ (রাস্তা, ড্রেনেজ) তদারকি করেন এবং নাগরিক সমস্যার সমাধান করেন তারা সিটি মেয়রকে সহায়তা করেন, স্থানীয় আইন প্রণয়নে অংশ নেন এবং ওয়ার্ডের মানুষের দাবিসমূহ পরিষদে উপস্থাপন করেন
একজন কাউন্সিলরের প্রধান কাজগুলো হলো:
জনপ্রতিনিধিত্ব: নিজের ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষে কথা বলা এবং তাদের চাহিদা বা সমস্যাগুলো তুলে ধরা
উন্নয়নমূলক কাজ: রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্ট্রিট লাইট, এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা ।
পরিষেবা নিশ্চিতকরণ: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তদারকি করা ।
মেয়রকে সহায়তা: শহরের সার্বিক উন্নয়নে মেয়রের নির্দেশ পালন ও পরিষদের কাজে সহায়তা করা
আইন প্রণয়ন ও বাজেট: স্থানীয় কর নির্ধারণ, আইন তৈরি এবং ওয়ার্ডের জন্য বাজেট বরাদ্দে মতামতের
সামাজিক দায়বদ্ধতা: এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা ।
এই সকল কাজগুলো সততার সহিত সম্পাদন করার জন্য জনাব মোঃ আব্বাস আলীকে ১৬ নং ওয়ার্ডয়ের জনতার কাউন্সিলর হিসেবে দরকার মনে করেন স্থানীয় জনগণ।
আব্বাস আলীকে নিয়ে আরো পড়ুন- ১৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নতুন সমীকরণ, সামাজিক কাজ ঘিরে আলোচনায় আব্বাস আলী
তাঁর মানবিক কর্মযজ্ঞের কিছু উদাহরণ:
- করোনার সেই ভয়াল সময়ে যখন মানুষ ঘরবন্দি, চাকরি নেই, খাবার নেই — তখন প্রায় এক হাজার পরিবারের রান্নার হাঁড়ি জ্বালিয়েছেন তিনি।
- বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
- শীতের রাতে অসহায় মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিয়েছেন।
- রমজানে ইফতার পৌঁছে দিয়েছেন দরিদ্র ঘরে ঘরে।
- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
- ব্যক্তিগত সংকটে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন নীরবে।
- ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশগেট নির্মাণ ও পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তা করেছেন — শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
- হাফেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে পাগড়ি বিতরণসহ ধর্মীয় আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলেন, “এসব কাজ তিনি করেন প্রচারের জন্য নয়, মানুষের কষ্ট দেখে। তিনি জনগণের অভিভাবক হয়ে উঠেছেন।”
তাহলে এবার কেন কাউন্সিলর হতে চান আব্বাস আলী?
তাঁর নিজের ভাষায়:
“ব্যক্তিগত সহায়তায় মানুষের ছোট ছোট কষ্ট লাঘব করা যায়, কিন্তু নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান জনপ্রতিনিধি ছাড়া সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা, সিটি কর্পোরেশনের পরিকল্পিত উন্নয়ন ছাড়া রাস্তা প্রশস্ত করা, খেলার মাঠ তৈরি করা, কবরস্থানের সমস্যা মেটানো, গ্যাস-পানির সংকট দূর করা যায় না।
আমি কাউন্সিলর না হলেও মানুষের পাশে থাকব। কিন্তু জনগণের ভাই ও অভিভাবক হিসেবে জনপ্রতিনিধি হয়ে কাজ করলে সরকারের দরজায় জোরালোভাবে দাবি তুলতে পারব। আমি রাজনীতির লোক নই, তবে ১৬ নং ওয়ার্ডে রাজনীতির ধারা পাল্টে দিতে চাই। রাজনীতি হোক জনগণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। আমি এমন কাজ করতে চাই যেন মানুষ আমার জন্য দোয়া করে।”
আরো পড়ুন- কাফরুল থানা বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা শীর্ষক কর্মশালা

স্থানীয়দের প্রত্যাশা এখন স্পষ্ট:
তারা চান এমন একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি —
- সহজে যোগাযোগযোগ্য
- নিয়মিত এলাকায় থাকবেন
- সমস্যায় দ্রুত সাড়া দেবেন
- পরিকল্পিত উন্নয়ন করবেন — রাস্তা প্রশস্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক নিরাপত্তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনই আলোচনার ঝড় উঠেছে। একদিকে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের ছবি-ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে, অন্যদিকে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের আহ্বানও আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়ার্ড পর্যায়ের নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের চেয়েও বড় ফ্যাক্টর হয় ব্যক্তিগত ইমেজ, জনসম্পৃক্ততা ও দৃশ্যমান সেবা। আব্বাস আলীর ক্ষেত্রে সেই সবকিছুই আছে।
“আমি পদের জন্য নয়, কাফরুলের মানুষের সেবক হয়ে থাকতে চাই। ১৬ নং ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিগলি হবে নিরাপদ ও আধুনিক।” — আব্বাস আলী
এখন প্রশ্ন একটাই —
১৬ নং ওয়ার্ডের মানুষ কি এবার সেই পরিবর্তন চাইবে, যিনি নিজেকে ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে পরিচয় দিতে চান? যিনি কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করবেন যে রাজনীতি আসলে মানুষের জন্যই?
সময়ই দেবে সেই উত্তর। কিন্তু আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। পরিবর্তনের দাবিতে ১৬ নং ওয়ার্ড এখন সরব।




