দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় জামায়াত; বিএনপি নেতাদের নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ

বিএনপি জামায়াত

স্থানীয় সরকারের সব স্তরে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দলটি বলেছে, সরকার মেধার পরিবর্তে ‘কোটা’র পক্ষ নিয়েছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম

‘জনগণের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন’

সম্প্রতি ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ করা জনমতের প্রতিফলন নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, এর ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ক্ষুণ্ন হবে এবং আগামী নির্বাচনে বিশেষ কোনো দলকে সুবিধা দেওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হতে পারে।

উপাচার্য ও ইউজিসি নিয়োগে ‘কোটা’র ছায়া

সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি সমর্থক শিক্ষকদের উপাচার্য এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের সমালোচনা করে জামায়াত জানায়, এসব ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে বড় করে দেখা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীকে উপাচার্য নিয়োগ করা মেধা নয়, বরং কোটাপ্রথাকে ধারণ করে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগ প্রসঙ্গে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দিয়ে অতীতের সব নিয়ম পদদলিত করেছে।”

জুলাই চেতনার পরিপন্থি পদক্ষেপ

সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। কিন্তু বর্তমান সরকারের এসব নিয়োগ সেই গণতান্ত্রিক চেতনাকে ব্যাহত করছে। জামায়াত অবিলম্বে প্রশাসক প্রথা বাতিল করে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *