‘যেকোনো সময় হরতাল-অবরোধের প্রস্তুতি রয়েছে, তারেক রহমানের মুখে মধু অন্তরে ছলনা’: বরিশালে চিফ হুইপ নাহিদ

যেকোনো সময় হরতাল অবরোধের প্রস্তুতি

সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না করে, তবে যেকোনো সময় হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে আবারও গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে বাধ্য হবে দেশের মানুষ।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বিকেলে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আরো জানুন- ‘ফার্মের মুরগি’ ছাত্ররা রাজপথে নেমেছিল বলেই তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী

মুখে মধু, অন্তরে ছলনা!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এ মুহূর্তে দেশে কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ পরিস্থিতিকে সেই দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই যে গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ এর প্রচারণা চালালেন, নির্বাচনের পর ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়ার পরও তিনি তা বাস্তবায়ন করছেন না। তার মুখে মধু, আর অন্তরে ছলনা।”

তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয় যে আপনি যা খুশি তাই করবেন। বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে বলা হলেও দুঃখের বিষয় ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করছে। আসল কথা হচ্ছে, বিএনপি কখনোই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না, তারা কেবল ক্ষমতার স্বার্থে আমাদের সাথে কাঁধ মিলিয়েছিল।”

সংবিধান সংশোধনের নামে প্রহসন করলে পরিণতি হাসিনার মতো!

সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন,

“নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এখন তারা পরিবর্তনের কথা ভুলে গেছে। এখন আর ৩১ দফা বা সংবিধান সংস্কারের কথা বলে না। অথচ তাদের ৩১ দফার প্রথম দফাই ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা। শেখ হাসিনা সংবিধানে প্রহসন করে আজকে দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিএনপি সরকারকেও বলে দিতে চাই, এই প্রহসন দেশের মানুষ মানবে না। আপনারা সংস্কারে রাজি না হলে আমরা নতুন সংবিধান ও নতুন গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি তুলব।”

‘কর্মসংস্থান হয়েছে শুধু ছাত্রদল-যুবদলের চাঁদাবাজদের’

নির্বাচনী ইশতেহারের সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। গত পাঁচ মাসে সাধারণ মানুষের কয়টি চাকরি হয়েছে? চাকরি হয়নি, কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে শুধু চাঁদাবাজদের, ছাত্রদলের, যুবদলের, শ্রমিক দলের ও কৃষক দলের! সাধারণ মানুষের কপালে কিছুই জোটেনি।”

তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দেব না। কর্মসংস্থান, সীমান্ত সুরক্ষা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য আমাদের আবারও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *