সিলেট-৫ আসনে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকের ১০ দফা: সুরমা-কুশিয়ারার ভাঙন রোধে বিশেষ অগ্রাধিকার

সিলেট-৫ আসনে ‘খেজুর গাছ’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর যৌথ মনোনীত প্রার্থী, বরেণ্য আলেম মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

“খেজুর গাছ” প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এই শায়খুল হাদীস তাঁর ইশতেহারে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে একটি ইনসাফভিত্তিক আধুনিক জনপদ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

ইশতেহারের মূল ১০টি স্তম্ভ:

১. যোগাযোগ বিপ্লব

কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের সংযোগ সড়কগুলো (বুরহানুদ্দিন রোড, শেওলা-জকিগঞ্জ, চতুল-শাহবাগ) সংস্কার ও প্রশস্ত করা হবে। ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নকে ব্রিজের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা এবং গাছবাড়ী ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে দুই উপজেলাকে একই রোড চ্যানেলে আনা হবে।

২. মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষা

বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি নারীদের জন্য স্বতন্ত্র উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা এবং মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

৩. নদী ভাঙন রোধ ও পানি ব্যবস্থাপনা

সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে ডাইক নির্মাণ ও ব্লক ফেলার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করা হবে। নদী ও খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করা এবং বন্যা কবলিত এলাকায় উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

৪. কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন

অনাবাদি জমি আবাদে আনা, সারের ন্যায্যমূল্য ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ নিশ্চিত করা হবে।

৫. আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা

উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করে নিয়মিত ডাক্তার ও নার্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। ক্যানসার, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের ওষুধ স্বল্পমূল্যে সরবরাহ এবং প্রসূতি মায়েদের জন্য ব্যথামুক্ত ডেলিভারি সেবা চালু করা হবে।

৬. কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন

লোভা পাথর কোয়ারি পুনরায় চালু করা হবে। প্রবাসীদের জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং যুব উদ্যোক্তাদের জন্য মেন্টরশিপের ব্যবস্থা করা হবে।

৭. ধর্মীয় ব্যক্তিদের মর্যাদা

ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানভাতা চালু এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলেম ও মুরব্বিদের পরামর্শ গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে।

৮. সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা

গুম, খুন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে সুস্থ ধারার রাজনীতি নিশ্চিত করা হবে। হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং গ্রাম্য বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে।

৯. বাজার ও পর্যটন আধুনিকায়ন

জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের প্রধান বাজারগুলোতে ড্রেনেজ ও সিসিটিভি ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই অঞ্চলের পর্যটন স্পটগুলোকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে গড়ে তোলা হবে।

১০. রেল ও গ্যাস সংযোগের অঙ্গীকার

সীমান্তবর্তী এই জনপদকে রেলপথে যুক্ত করা এবং স্থানীয় গ্যাস খনি থেকে গ্যাস উত্তোলন করে বাসাবাড়িতে সংযোগ দেওয়ার জন্য জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

প্রার্থী পরিচিতি: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক

তিনি একাধারে জাতীয় পর্যায়ের বরেণ্য আলেম, শায়খুল হাদীস এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি। চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলেছেন। হাদীস ও ভূগোল শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য সর্বজনস্বীকৃত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *