সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ‘৩৭ জন’ কারা? আলোচনায় হেভিওয়েট নেত্রীদের লম্বা তালিকা!

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংরক্ষিত নারী আসন। ভোটের সমীকরণ অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ঝুলিতে আসতে পারে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি আসন। আর এই আসনগুলোতে কারা বসছেন, তা নিয়ে নয়াপল্টন থেকে গুলশান—সর্বত্রই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

ঈদের আগেই শেষ হবে ভোট

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসের মধ্যেই নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যেই ভোট শেষ করতে চায় কমিশন। সেই হিসেবে ঈদের আগেই চূড়ান্ত হবে বিএনপির ৩৭ জন সংসদ সদস্যের নাম।

কারা পাচ্ছেন অগ্রাধিকার?

বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ‘যোগ্যতা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা’—এই তিন মূলনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। গত নির্বাচনে যেভাবে প্রবীণ ও নবীনের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছিল, সংরক্ষিত আসনেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন,

“দলের দুঃসময়ে যেসব নেত্রী রাজপথে ছিলেন, যাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ত্যাগ রয়েছে, তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে। প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ মেধাবীদেরও সুযোগ দেওয়া হবে।”

মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে যারা: হেভিওয়েটদের লড়াই

৩৭টি আসনের বিপরীতে ইতিমধ্যে শতাধিক নেত্রী মাঠে নেমেছেন। তবে আলোচনায় সবার উপরে রয়েছেন:

  • বেগম সেলিমা রহমান ও আফরোজা আব্বাস: দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে শীর্ষে রয়েছেন।
  • বীথিকা বিনতে হুসাইন: প্রয়াত নেতা শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন ‘অর্পণ আলোক সংঘ’-এর মাধ্যমে নির্যাতিত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে দলের হাইকমান্ডের নজরে আছেন।
  • নিপুণ রায় চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম তুলি: ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলিও রয়েছেন আলোচনার সামনের সারিতে।
  • হালিমা খান লুসি : বর্তমানে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ।দীর্ঘ ৩৩ বছরের রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি শুধু পদ-পদবি অর্জন করেননি—গড়ে তুলেছেন তৃণমূলের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস। শুধু রাজপথের রাজনীতি নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতাতেও সমানভাবে উজ্জ্বল হালিমা খান লুসি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি,ইউসিসি (UCC) থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ।গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান ও সাহসী। ৩৬শে জুলাই সরকারের পলায়নের আগ পর্যন্ত তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন বলে দলের অভ্যন্তরে প্রচলিত রয়েছে।
হালিমা খান লুসি
মাঝখানে হালিমা খান লুসি

এছাড়াও হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা, সুলতানা আহমেদ, নাজমুন নাহার বেবী এবং সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, আসিফা আশরাফী পাপিয়া ও নিলোফার চৌধুরী মনির নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।

সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী কোটায় চমক

রাজনীতির বাইরে পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকেও আসতে পারে বড় চমক। তালিকায় রয়েছেন:

  • কণ্ঠশিল্পী: বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন ও কনক চাঁপা।
  • সাংবাদিক: শাহনাজ পলি।
  • অভিজাত পরিবার: প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ।

তারুণ্যের জয়গান: আলোচনায় নতুন মুখ

নতুন প্রজন্মের নেত্রীদের মধ্যে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, জেবা আমিন খান, শাহানা আকতার সানু, এবং সামিরা তানজিনা চৌধুরীর মতো মেধাবীরাও রয়েছেন মনোনয়নের দৌড়ে।

শেষ কথা

দলীয় সূত্র বলছে, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। যারা বিগত আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন, তারাই এবার সংসদে বসার টিকিট পাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *