নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার’ শিরোনামে এই রূপরেখা প্রকাশ করা হয়।
দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। এতে রাষ্ট্র সংস্কারের ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি ৫টি ‘হ্যাঁ’ এবং ৫টি ‘না’-এর মাধ্যমে ১০টি মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
১০টি বিশেষ প্রতিশ্রুতি: কী আছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-তে?
জামায়াতের এবারের ইশতেহারে নৈতিকতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ৫টি ‘হ্যাঁ’ (সাফল্যের ভিত্তি): সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান।
- ৫টি ‘না’ (বর্জনের অঙ্গীকার): দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।
২৬ দফার অগ্রাধিকার ও নারীর ক্ষমতায়ন
ইশতেহারে মোট ২৬টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- নারীর মর্যাদা: কর্মক্ষেত্রে নারীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি।
- কর্মসংস্থান: বেকার যুবকদের জন্য আধুনিক কর্মসংস্থান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার।
- শাসনব্যবস্থা: ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান।
জামায়াত আমিরের বক্তব্য
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন:
“আমরা ৫৪ বছর ধরে বলে আসছি—ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। আমাদের এই ইশতেহার কেবল দলীয় কর্মসূচি নয়, এটি জাতির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং একটি জীবন্ত দলিল।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ইশতেহার প্রণয়নে দেশ-বিদেশের ২৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে আসা জনগণের সরাসরি মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপস্থিতি
ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




