বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর আজ মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত করে।
বিকেলের শপথ অনুষ্ঠান বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা: ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি হচ্ছেন তারেক রহমান
নির্বাচনের ফলাফল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটি বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। তাদের সংসদীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তারেক রহমান, যিনি দীর্ঘদিন লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন, এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এটি দেশে নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সংবিধান সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
দেশবাসী নতুন সরকারের কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।




