চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “২০২৪-এর পথ না খুললে ২০২৬ কখনো আসত না। যারা এই বাস্তবতা অস্বীকার করবে, তাদের জন্য ২০২৬ সালেই লাল কার্ড অপেক্ষা করছে।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ তার সঠিক দিকনির্দেশনা খুঁজে পাবে।
সোমবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানা এলাকার বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে সীতাকুণ্ড, সাতকানিয়া, কক্সবাজার ও মহেশখালীতে পৃথক সমাবেশে অংশগ্রহণ শেষে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের এই কর্মসূচিতে যোগ দেন।
সমাবেশে চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীসহ নগর জামায়াতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতির খবর নিয়ে আরো পড়ুন- ১০ আসনে থাকছে না ধানের শীষ
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“আমি কোনো দলের একক বিজয় চাই না, আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয়।”
তার ভাষায়, আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে যুবসমাজ। তিনি বলেন, ডাকসু থেকে জকসু পর্যন্ত নেতৃত্বের যে ধারা রয়েছে, সেটিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
তিনি যুবকদের উদ্দেশে বলেন,
“আমরা তোমাদের চাকরির লোভ দেখাব না; আমরা তোমাদের যোগ্য করে গড়ে তুলব।”
রূপক বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন,
“বাংলাদেশ নামের একটি উড়োজাহাজের ককপিটে আমরা যুবকদের ক্যাপ্টেন হিসেবে বসাতে চাই। আমরা থাকব যাত্রী আসনে। তারাই জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।”
তিনি বলেন, বীরেরা কখনো মরে না—তারা জীবন দিয়ে জাতিকে সৎ রাজনীতির পথ দেখিয়ে যায়। “আমরা আর কোনো জুলাই কারও হাতে তুলে দেব না,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।
গত সাড়ে ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“যারা দীর্ঘদিন নিজেদের নিপীড়িত বলেছে, তারা মাত্র ১৫ মাসেই চাঁদাবাজিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।”
১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে বিজয়ী হলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার অঙ্গীকার করেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“মাঘ মাসেই যদি মাথা এত গরম হয়, চৈত্রে কী হবে? মাথা ঠাণ্ডা রাখুন।”
তিনি বলেন, যুবসমাজ জেগে আছে, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন,
“এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড আর অন্য হাতে মায়ের গায়ে হাত—এই রাজনীতি আমরা চাই না। আমার মায়ের মর্যাদার চেয়ে কোনো কার্ডের মূল্য নেই।”
সাম্প্রতিক সংঘাত প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,
“আমাদের মায়েদের গায়ে হাত দিলে আগুন জ্বলে উঠবে, সে আগুন কেউ নেভাতে পারবে না।”
ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনের পথ থেকে জামায়াতকে সরানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন,
“এই যুবসমাজ ভিক্ষা বা ভাতা চায়নি, তারা কাজ চেয়েছে। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমান করব না, বরং প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলব।”
১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“এই ভোট হচ্ছে জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট।”
তিনি দাবি করেন, সারা দেশে ঐক্যজোটের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন বঞ্চনা ও বন্দরের দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন,
“নামে বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও কাজের বেলায় চট্টগ্রাম বঞ্চিত। যুগ যুগ ধরে কিছু মানুষ এই বন্দর বিক্রি করে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে। ভবিষ্যতে এই বন্দর জনগণের হবে।”
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তিনি সব ধর্ম ও মতের মানুষকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।




