তারেক রহমানের ৩৫ দফা: নতুন বাংলাদেশের জন্য বিএনপির ‘মাস্টারপ্ল্যান’!

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের বৈপ্লবিক রূপরেখা সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এই ইশতেহার উন্মোচন করেন।

ইশতেহারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্দিষ্টকরণ এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠনসহ ৩৫টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন-৯০ বছরে শহীদ জিয়া: বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথিকৃৎ

প্রধান প্রতিশ্রুতিসমূহ একনজরে

বিএনপির এই ইশতেহারের মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং পূর্ব ঘোষিত ৩১ দফা। ইশতেহারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

  1. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা: কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে যতবারই নির্বাচিত হোন না কেন, তিনি সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি ওই পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।
  2. তত্ত্বাবধায়ক সরকার: ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানে পুনরায় ‘নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
  3. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ১০০ সদস্যের একটি ‘উচ্চকক্ষ’ প্রবর্তন করা হবে, যা বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করবে।
  4. উপ-রাষ্ট্রপতি পদ: রাষ্ট্রে ভারসাম্য আনয়নের লক্ষ্যে একজন উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করা হবে।
  5. ধর্মীয় মূল্যবোধ: সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন করা হবে।

বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক সংস্কার

বিএনপি তাদের ইশতেহারে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম দুই বিচারকের একজনকে নিয়োগের বাধ্যবাধকতা এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব করতে একটি স্বাধীন ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সুরক্ষা

ইশতেহারে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংঘটিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও দুর্নীতির তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার ও ন্যায়পাল

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে করবে এবং স্থানীয় সরকারকে আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগের বিষয়টিও ৩৫ দফার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *