ঋণখেলাপির দায়ে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, শপথ নিতে পারবেন না!

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল

নির্বাচনে জয়ী হলেও ঋণখেলাপি ব্যক্তি দেশের আইনপ্রণেতা বা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—এমন এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ঋণখেলাপির অভিযোগে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তাঁর এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। রায়ের পর আপিলকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন,

“ঋণখেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরী এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। ঋণখেলাপিদের বিষয়ে এটি বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এই রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হলেও পার পাবেন না।”

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম-৪ আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি সেখানে নতুন করে উপ-নির্বাচন হবে—সে বিষয়ে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় দেশের সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবে।

মনোনয়ন বৈধতা থেকে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়: ব্যাকগ্রাউন্ড

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরপরই আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ঋণখেলাপির অভিযোগ ওঠে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল শুনানির শেষ দিনে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। ইসির সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হলেও হাইকোর্ট আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখেন।

পরবর্তীতে, একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনায় জানান, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে জয়ী হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল স্থগিত থাকবে। সর্বশেষ সেই আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালত তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের চূড়ান্ত রায় দিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *