ঢাকা: ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ। গতকাল অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও প্রোফাইলে ছড়িয়ে পড়া প্রিসাইডিং অফিসারদের স্বাক্ষরিত প্রাথমিক ফলাফল বিবরণী (ফরম ১৬)-তে দৃশ্যমান কাটাকাটি ও সংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একে ‘পরিকল্পিত কারচুপি’ হিসেবে দাবি করছে।
রেজাল্ট শিটে কাটাকাটির অভিযোগ
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু নথিতে দেখা গেছে, প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যায় অস্পষ্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৮ ও গাজীপুর-২ আসনের নাম উল্লেখ করে ছড়িয়ে পড়া নথিতে দেখা যায়:
- সংখ্যায় গরমিল: একটি ভাইরাল ছবিতে দেখা যায়, প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ২৪২ লিখে পরে তা কেটে ৫৪২ করা হয়েছে। অন্য কিছু নথিতে ৫০০-এর জায়গায় ৭৩৪ এবং ১০০৬-এর স্থলে ১৫০৬ লেখার মতো অসামঞ্জস্য ফুটে উঠেছে।
- সংশোধনে ত্রুটি: নিয়ম অনুযায়ী কোনো সংখ্যা সংশোধন করলে সেখানে প্রিসাইডিং অফিসারের বিশেষ স্বাক্ষর (Counter Signature) থাকতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে অনুপস্থিত ছিল।
- হঠাৎ জয়-পরাজয়: নেটিজেনদের দাবি, অনেক কেন্দ্রে প্রাথমিক গণনায় নির্দিষ্ট প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণায় ফলাফল উল্টে দেওয়া হয়েছে।






সাংবাদিকের স্ট্যাটাসে চাঞ্চল্য
নির্বাচনের দিন গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খোদ সংবাদকর্মীদের কেউ কেউ। সিনিয়র সাংবাদিক ইসরাফিল ফরাজি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যান্ডেলে দাবি করেছেন যে, নির্বাচনের আগে এক প্রভাবশালী মহলের নির্দেশনায় গণমাধ্যমকে নির্দিষ্ট কিছু খবর (যেমন: কেন্দ্র দখল বা সহিংসতা) প্রচার না করার জন্য বলা হয়েছিল। এই দাবি সত্য হলে তা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসি-র বক্তব্য ও আইনি দিক
নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবশ্য বরাবরই এ ধরনের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছে। কমিশনের মতে, ফলাফল ঘোষণা একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং এতে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। তবে মাঠপর্যায়ের ছবি ও নথির এই অমিল জনগণের মনে আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
rajneetibangla.com-এর অবস্থান
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি বা তথ্যের সত্যতা rajneetibangla.com স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। জনস্বার্থে এবং স্বচ্ছতার দাবিতে আমরা কেবল ইন্টারনেটে বহুল আলোচিত ও প্রচারিত অভিযোগগুলো তুলে ধরেছি। এসব নথির সত্যতা নিয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ বক্তব্য প্রদান করলে আমরা তা দ্রুত প্রকাশ করব।




