যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম দিনেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দিতে ৯টি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সাবেক তারকা গোলরক্ষক আমিনুল হক। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আজ প্রথম কর্মদিবসেই তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর এই ৯টি কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চারটি সংস্থা—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া পরিদপ্তর, বিকেএসপি এবং ক্রীড়া কল্যাণসেবী ফাউন্ডেশন সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।
ঘোষিত কর্মসূচির মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- খেলোয়াড়দের বেতন ও পেশাদারিত্ব: ফুটবল ও ক্রিকেটের বাইরে অন্য সকল ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় দলের সকল খেলোয়াড়কে স্থায়ী বেতনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পেশা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
- তৃণমূল পর্যায় ও শিক্ষা: চতুর্থ শ্রেণী থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি তদারকি করবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিকেএসপি। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিস স্থাপন ও ক্রীড়া অফিসার নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া পরিদপ্তরকে।
- অবকাঠামো উন্নয়ন: দেশের ৬৪টি জেলায় ‘ইনডোর ভিলেজ’ স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (বিকেএসপি)।
- সরঞ্জাম উৎপাদন ও রপ্তানি: আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উন্নত মানের ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরি এবং ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা নিয়েছে মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিদপ্তর।
- স্পন্সরশিপ ও অর্থায়ন: ফেডারেশনগুলোর আর্থিক সংকট দূর করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট কোনো খেলা বা ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়: দায়িত্ব নিয়েই আমিনুল হক ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সেই অনুযায়ী, আগামী রোববার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি ইতিমধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে তিনটি ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনকে প্রেরণ করা হয়েছে।
গতকাল শপথের পর মিরপুর পল্লবীস্থ কার্যালয়ে আমিনুল হক বলেছিলেন, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। আজ থেকেই সেই লক্ষ্য অর্জনে তিনি কাজ শুরু করলেন।




