দেশের বিদ্যুৎ খাতের চরম বিশৃঙ্খলা, বিদ্যুতের একের পর এক ‘ভূতুড়ে বিল’, জ্বালানি তেল ও তীব্র গ্যাস সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে পদযাত্রাটি সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতার দিয়ে তাদের গতিপথ রুদ্ধ করে। বাধার মুখে সেখানেই রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’ ও গণভোগান্তির বিরুদ্ধে ১১ দফা দাবি
সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“আমরা আজ এখানে শুধু কোনো রাজনৈতিক বক্তৃতা দিতে আসিনি। বিদ্যুতের লাগামহীন ‘ভূতুড়ে বিল’, জ্বালানি সংকট এবং নিত্যপণ্যের দামের চাপে পিষ্ট ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের ১১ দফা দাবি সরকারের হাতে তুলে দিতে এসেছি। এই ১১ দফা কোনো একক রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, এটি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই।”
তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক ভূতুড়ে বিল পাঠিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটা হচ্ছে। একইসাথে এলপিজি গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে সিন্ডিকেটের তাণ্ডবে জনজীবন আজ অতিষ্ঠ।
আরো পড়ুন- স্থানীয় সরকারের সংগঠন কোনটি?
সচিবালয়ের সামনে পুলিশের বাধা ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
আজ দুপুর পৌনে ১টার দিকে পদযাত্রাটি সচিবালয়ের প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছালে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয়। এ সময় নেতাকর্মীরা ব্যানার হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।
পুলিশি বাধার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“আমরা কাউকে অসম্মান করতে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আসিনি। সচিবালয় জনগণের সম্পদ। সেখানে যারা দায়িত্বে বসে আছেন, তাদের জনগণের চিৎকার শুনতে হবে এবং ভূতুড়ে বিল ও বাজার সিন্ডিকেটের সমাধান করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।”
জোটের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন, ভূতুড়ে বিলের ভোগান্তি বন্ধ, এলপিজি গ্যাসের দাম প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল নিয়ে পড়ুন- ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল: অন্যায্য বিলে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ
সূত্রঃ যুগান্তর




