ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে তাকে বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে।
চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শেখ হাসিনা ফিরিয়ে আনতে দিল্লির সাথে সমঝোতা করে কোনো চক্রান্ত হলেও রাজপথে অলআউট প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এনসিপি আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার এক দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক দিনে তৎকালীন রাজপথের উত্তাপ স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন,
“শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে আসে এবং তারেক রহমান যদি দিল্লির সাথে সমঝোতা করে তাকে দেশে আনার ব্যবস্থা করেন, তবে আমরা প্রস্তুত আছি।
এয়ারপোর্ট থেকে তাকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে।
চৌদ্দশত শহীদ পরিবার ও ৩০ হাজার আহত যোদ্ধা সেদিন রাজপথে নেমে আসবে এবং ফাঁসি কার্যকর হওয়া না পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
‘এক দফা আংশিক অর্জিত, কিন্তু ব্যবস্থা বদলায়নি’ চব্বিশের ৩ আগস্ট শহীদ মিনারের ঐতিহাসিক এক দফা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
ফ্যাসিবাদের পতন ও ব্যবস্থার বিলোপই ছিল আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
কিন্তু আন্দোলনের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এক দফা কেবল আংশিক অর্জিত হয়েছে।
তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “পরিবর্তন বলতে এটুকুই হয়েছে যে- তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
কিন্তু গত দুই বছরে দেশের প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যবস্থার কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।
আগের মতোই ঘুষ, দুর্নীতি, আর চাঁদাবাজির স্বৈরশাসন ব্যবস্থা বহাল রয়েছে।”
আরো পড়ুন- ‘আমাদের বালুর ট্রাক দিয়ে আটকানো যাবে না’
বিএনপির ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা
বিগত দুই বছরে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে এনসিপি প্রধান বলেন, আন্দোলনের সহযাত্রী হয়েও পরবর্তীতে বিএনপিই সংস্কার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে।
পাঁচ মাস ধরে ক্ষমতায় থাকলেও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কোনো পরিবর্তন তারা আনতে পারেনি।
শহীদ ও আহত পরিবারের সরকারের প্রতি ক্ষোভ তুলে ধরে তিনি বলেন,
“কাউকে কোনো নির্দিষ্ট চেয়ারে বসানোর জন্য শহীদরা প্রাণ দেয়নি।
শহীদ পরিবার দেশের সম্পদ, তাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই বাকস্বাধীনতা।
কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার তাদের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
যেকোনো ধরনের নতুন স্বৈরতন্ত্র ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েমের বিরুদ্ধে এনসিপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট জানান, জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন-
- এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন,
- উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম,
- মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,
- জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু,
- মূখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুমসহ
শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: সমকাল




