ল্যাপটপের পেছনে বসে দেশের জনমত নিয়ন্ত্রণ করে যারা – বাংলাদেশের ট্রোল আর্মির ভয়ঙ্কর জগৎ

ট্রোল আর্মি

এক দশক আগে বাংলাদেশের রাজনীতি বা সামাজিক আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ছিল রাজপথ, চায়ের আড্ডা আর সংবাদপত্রের পাতা। আজ সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে আমাদের হাতের ৫-৬ ইঞ্চি স্ক্রিন।

সকালে ফেসবুক বা ইউটিউব খুললেই যে তীব্র বিতর্ক, ট্রোলিং বা হাজার হাজার কমেন্টের ঢল দেখি, তার আসলে কতটা স্বতঃস্ফূর্ত আর কতটা পরিকল্পিত- এই প্রশ্নটা এখন সময়ের দাবি।

এই ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ একা নন। পর্দার পেছনে কাজ করছে একটি সংগঠিত, বেতনভুক্ত বাহিনী-যাদের আমরা চিনি ‘সাইবার ট্রোল আর্মি’ বা ‘আইটি সেল’ নামে।

এই অদৃশ্য বাহিনী কীভাবে কাজ করে, কীভাবে কয়েকজন মানুষ ল্যাপটপের সামনে বসে কোটি মানুষের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে- আসুন সেই অন্ধকার জগতে একটু উঁকি দেওয়া যাক।

মনে রাখা জরুরি, এই লেখার বিশ্লেষণ মূলত সাধারণ পর্যবেক্ষণ ও ধারণাভিত্তিক- কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দলের নাম এখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

১. ট্রোল আর্মি আসলে কারা?

ধারণা করা হতে পারে এরা কিছু উগ্র সমর্থক, যারা স্বেচ্ছায় বাড়িতে বসে কমেন্ট করছে। কিন্তু সত্যিটা অনেক বেশি পেশাদার।

বড় রাজনৈতিক দল, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা কর্পোরেট গোষ্ঠী এখন নিয়মিত পিআর এজেন্সি বা ডিজিটাল মার্কেটিং টিম ভাড়া করে।

ঢাকা ও আশপাশের শহরে ভাড়া ফ্ল্যাটে গড়ে ওঠে ছদ্মবেশী আইটি ফার্ম, যেখানে শিফট ধরে কাজ করে তরুণ-তরুণীরা- অনেকেই ফ্রিল্যান্সার বা পার্ট-টাইম ছাত্রছাত্রী।

প্রতিটি শিফটের জন্য আলাদা টুলকিট ও টার্গেট থাকে, এবং কাজ ভাগ করা থাকে এভাবে:

  • মিম ক্রিয়েটর-যারা ব্যঙ্গাত্মক ছবি বা ট্রোল ভিডিও তৈরি করে
  • কমেন্টার ও রিঅ্যাক্টর-যাদের কাজ শুধু কমেন্ট আর লাইক-লাভ-হাহা রিঅ্যাকশন দিয়ে পোস্ট বুস্ট করা
  • রিপোর্টার্স-ভিন্নমতের আইডি বা পেজ গণ-রিপোর্ট করে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে দাবিয়ে দেওয়া

২. কীভাবে তৈরি হয় একটি ‘পেইড ন্যারেটিভ’

একটি সাধারণ ঘটনা ডিজিটাল প্রোপাগান্ডায় রূপ নেওয়ার পেছনে আছে নির্দিষ্ট কৌশল। প্রথমে কোনো স্পর্শকাতর ঘটনার পরপরই কোর টিম থেকে আসে নির্দেশনা-আজ কোন শব্দ বেশি ব্যবহার হবে, কাকে টার্গেট করা হবে।

তারপর শত শত ফেক প্রোফাইল বা বট দিয়ে শুরু হয় প্রাথমিক ঠেলাঠেলি, যাতে অ্যালগরিদম বিষয়টিকে ট্রেন্ডিং ধরে নিয়ে সাধারণ মানুষের ওয়ালে ছড়িয়ে দেয়।

এরপর সাধারণ মানুষ যখন সেই ট্রেন্ড দেখে আবেগের বশে আলোচনায় জড়িয়ে পড়ে, তখনই একটি স্পনসরড ইস্যু ‘জনগণের ইস্যু’ হয়ে যায়।

৩. প্রধান চার ধরনের কৌশল

বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে ট্রোল আর্মিরা সাধারণত চারটি কৌশল ব্যবহার করে। চরিত্র হনন- কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির পুরোনো ছবি, এডিটেড ভিডিও বা বানানো স্ক্যান্ডাল ছড়িয়ে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করা।

হোয়াটঅবাউটিজম- সংকটের সময় প্রতিপক্ষের পুরোনো কোনো ঘটনা সামনে এনে আলোচনা ঘুরিয়ে দেওয়া। তথ্য-বন্যা আসল তথ্য ধামাচাপা দিতে প্রচুর অপ্রাসঙ্গিক বা ভুয়া পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া।

আর বিভাজন- ধর্ম, আঞ্চলিকতা বা স্পর্শকাতর ইস্যু তুলে সমাজকে দুই মেরুতে ভাগ করে মূল সংকট থেকে নজর সরানো।

৪. ট্রোল আর্মির ডিজিটাল হাতিয়ার

পেশাদার ট্রোল আর্মিরা শুধু হাতে-কলমে কাজ করে না, তাদের পেছনে থাকে নানা সফটওয়্যার ও ডিভাইস। অ্যান্টি-ডিটেক্ট ব্রাউজার আর প্রক্সি ব্যবহার করে একজনই একসাথে চালাতে পারে বহু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।

সিম বক্সের মাধ্যমে একসাথে শত শত সিমে ওটিপি নিয়ে তৈরি হয় ভুয়া আইডি।

অটো-কমেন্টার বট দিয়ে কয়েক মিনিটেই হাজার হাজার গ্রুপ বা পেজে কমেন্ট স্প্যাম চালানো যায়। আর এআই আসার পর কাজ আরও সহজ হয়েছে- এআই টুল দিয়ে মুহূর্তেই তৈরি হয় ইউনিক কমেন্ট, আর্টিকেল, এমনকি ভয়েস ও ডিপফেক ভিডিও।

৫. একটি কাল্পনিক উদাহরণ

ধরুন, বাজারে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেল, মানুষ ক্ষুব্ধ। প্রথম ঘণ্টায় আইটি সেল সক্রিয় হয়ে ১০ বছর আগের কোনো সেলিব্রেটির বিতর্কিত ক্লিপ নতুন করে ছড়িয়ে দিল।

তৃতীয় ঘণ্টায় শত শত পেইড আইডি থেকে সমালোচনা ও মিম শুরু হলো। ষষ্ঠ ঘণ্টায় অ্যালগরিদম দেখল এই বিষয়েই সবচেয়ে বেশি এনগেজমেন্ট হচ্ছে, ফলে এটাই চলে এল হোমপেজের শীর্ষে। চব্বিশ ঘণ্টা পর মূল সংকট-পণ্যের দাম বৃদ্ধি-হারিয়ে গেল একটি বিনোদনমূলক বিতর্কের আড়ালে।

৬. কেন আমরা সহজে এই ফাঁদে পড়ি

মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক জীব, এবং এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগায় ট্রোল আর্মি- যাকে বলে ব্যান্ডওয়াগন এফেক্ট। কোনো পোস্টের নিচে দশ হাজার মানুষ একই কথা বললে আমাদের মন ভাবে, “সবাই বলছে যখন, এটাই ঠিক হবে।”

এই ভয়েই অনেকে নিজের ভিন্নমত প্রকাশ করতে দ্বিধায় পড়েন, যাকে বলে স্পাইরাল অফ সাইলেন্স। ফলে অনলাইনে তৈরি হয় একটি কৃত্রিম জনমত, বাস্তবতার সঙ্গে যার মিল না-ও থাকতে পারে।

ট্রোল আর্মি

৭. প্ল্যাটফর্মগুলো কি বসে আছে? — পাল্টা লড়াইয়ের চিত্র

এই যুদ্ধ যে একতরফা চলছে, তা নয়। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটা নিয়মিত ভিত্তিতে তাদের ‘কোঅর্ডিনেটেড ইনঅথেন্টিক বিহেভিয়ার’ বা সিআইবি (CIB) রিপোর্ট প্রকাশ করে।

যেখানে তারা বিভিন্ন দেশের সংগঠিত ফেক অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে সরিয়ে দেওয়ার তথ্য জানায়। এর মধ্যে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কও আগে একাধিকবার অপসারণের আওতায় পড়েছে।

মেটার সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো গোষ্ঠী যখন মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে সমন্বিতভাবে কোনো বিষয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করে বা গণ-রিপোর্টের মাধ্যমে কাউকে নিশ্চুপ করার চেষ্টা করে।

তখন তা সিআইবি নীতির লঙ্ঘন বলে গণ্য হয়, এবং এ ধরনের লঙ্ঘনের জন্য মেটা ফেক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ সরিয়ে দেয়।

গণ-রিপোর্টিং বা ‘কোঅর্ডিনেটেড অ্যাবিউসিভ রিপোর্টিং’-কেও তারা একটি গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে, যার লক্ষ্য সাধারণত প্রতিপক্ষ বা সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা।

এর মানে এই নয় যে সমস্যা শেষ হয়ে গেছে- নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, পুরোনোগুলো ধরা পড়ে। কিন্তু এটা মনে রাখা ভালো যে এই খেলার দুই পক্ষই আছে, এবং প্রযুক্তিগত জবাবদিহিতার জায়গাটা একদম শূন্য নয়।

৮. এটা কি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা?

মোটেও না। এটি একটি বৈশ্বিক প্যাটার্নের অংশ। ফিলিপাইনের ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে মেটা ১০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দিয়েছিল এবং পরে আরও ১৫ হাজার অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল।

ফিলিপাইনে এই সমস্যা মোকাবেলায় Tsek.ph নামে একটি ফ্যাক্ট-চেকিং উদ্যোগও গড়ে উঠেছে, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংবাদমাধ্যম একসাথে কাজ করে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও একই চিত্র। মেটার রিপোর্টে দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলের ‘ইন্টারনেট টিম’ বা রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দেশীয় দর্শকদের মধ্যে কোনো নেতার পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থনের একটি কৃত্রিম চিত্র তৈরি করার চেষ্টা করেছে একাধিক প্ল্যাটফর্মে।

অর্থাৎ ঢাকার ফ্ল্যাটে বসে চলা এই কার্যক্রম বিশ্বের অনেক দেশেই কমবেশি একই ছকে চলছে- শুধু ভাষা আর প্রেক্ষাপট আলাদা।

৯. আইনি দিক: অভিযোগ করবেন কোথায়?

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের জন্য পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন (সিটিটিসি) এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হেল্পলাইনে অভিযোগ জানানোর সুযোগ আছে।

ভুয়া আইডি, মানহানিকর কনটেন্ট বা সংগঠিত হ্যারাসমেন্টের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট বা প্রোফাইলের লিংক, স্ক্রিনশট ও সময়-তারিখ সংরক্ষণ করে অভিযোগ দায়ের করা যায়।

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যের প্রশ্নও থেকে যায়- সাইবার সংশ্লিষ্ট আইনগুলো যেমন হয়রানি বা অপপ্রচার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলে, তেমনি এসব আইনের অস্পষ্ট প্রয়োগ নিয়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে- বিশেষত ভিন্নমত দমনে এসব আইন ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে।

ফলে আইনি প্রতিকার চাওয়ার সময় এই দ্বিমুখী বাস্তবতাটিও মাথায় রাখা জরুরি।

১০. ফ্যাক্ট-চেকিং রিসোর্স: কোথায় যাচাই করবেন

কোনো খবর বা ছবি সন্দেহজনক মনে হলে নিজে নিজে যাচাই করার কিছু জায়গা আছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সক্রিয় ও আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্ক (IFCN) স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হলো রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশ, যারা নিয়মিতভাবে ভাইরাল হওয়া ছবি, ভিডিও ও দাবি যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এছাড়া এএফপি ফ্যাক্ট চেক বাংলা সংস্করণ এবং দেশের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর ফ্যাক্ট-চেক বিভাগও নির্ভরযোগ্য উৎস হতে পারে।

কোনো ভাইরাল কনটেন্ট নিয়ে সন্দেহ হলে সরাসরি এসব ওয়েবসাইটে গিয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করলেই অনেক ক্ষেত্রে আগের যাচাইকৃত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

১১. যারা এই কাজ করছেন, তাদের দিকটাও ভাবা জরুরি

এই পুরো আলোচনায় আমরা সাধারণত ‘ভুক্তভোগী পাঠক বনাম অদৃশ্য মাস্টারমাইন্ড’- এই দ্বিমুখী ছবিতে আটকে যাই। কিন্তু এই চক্রের মাঝখানে থাকা মানুষগুলো।

যে তরুণ-তরুণীরা শিফট ধরে কমেন্ট বা মিম তৈরি করছেন- তারাও এই বাস্তবতার একটা অংশ। অনেকের কাছে এটা স্রেফ একটা পার্ট-টাইম আয়ের উৎস, যেখানে কাজের প্রকৃত প্রভাব বা নৈতিক দিক নিয়ে ভাবার সুযোগ বা তথ্য তাদের কাছে সবসময় থাকে না।

এটা তাদের দায়মুক্তি দেওয়ার কথা নয়- কিন্তু এই বাস্তবতা বোঝা গেলে সমস্যাটাকে শুধু ‘কয়েকজন দুষ্ট মানুষের কারসাজি’ না ভেবে, একটা বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখা সহজ হয়।

যতদিন বেকারত্ব, সহজ আয়ের চাহিদা আর ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি থাকবে, ততদিন এই ‘কন্টেন্ট ফ্যাক্টরি’র জন্য লোকবল পাওয়াও সহজ থাকবে।

শেষ কথা

ডিজিটাল যুগের এই ট্রোল আর্মিরা কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতাদর্শের প্রতি অনুগত নয়- এরা মূলত অর্থ বা ক্ষমতার সমীকরণে চালিত পেশাদার সাইবার যোদ্ধা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যে ক্ষোভ, ঘৃণা বা অন্ধ সমর্থন দেখি, তার বড় অংশই তৈরি হয় ল্যাবরেটরিতে।

তাই স্ক্রিনের ওপারের লাইক-কমেন্ট-শেয়ারকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করার আগে নিজের বিবেক ও যাচাই করার ক্ষমতা জাগিয়ে রাখা জরুরি-না হলে আমরা না জেনেই কোনো অদৃশ্য মাস্টারমাইন্ডের পুতুলে পরিণত হব।

সৌভাগ্যবশত, প্ল্যাটফর্মের নজরদারি, স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা আর সচেতন পাঠক- এই তিন স্তরের প্রতিরক্ষা একসাথে কাজ করলে এই কৃত্রিম জনমতের প্রভাব অনেকটাই সীমিত করা সম্ভব।


এই লেখাটি একটি সাধারণ বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধ এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে লেখা নয়। উদাহরণগুলো ব্যাখ্যামূলক ও সাধারণীকৃত।

— মোহাম্মদ মহসীন, সম্পাদক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *